crimefocus71.com

প্রিয়তম্ উজ্জ্বল – এর কবিতা

(Last Updated On: April 26, 2017)

পিতার রাজ্যে আমি মোকছেদ

       প্রিয়তম্ উজ্জ্বল

 

বঙ্গবন্ধুকে আমি দেখিনি

কিন্তু তার বজ্রকণ্ঠ শুনেছি 

তাকে নিয়ে লেখা বই পড়েছি ;

বাল্যকাল থেকেই জাতির পিতার

জীবন দর্শণের প্রতি প্রবল টান ছিল

গ্রামে থেকে যতদুর পারি চেষ্টা করেছি।

পাড়ায়,মহল্লায় বিশেষ বিশেষ

দিবসে সাজানো পোষ্টার মিলল,

মুরগী চোর থেকে শুরু করে

জামায়েত,দেশদ্রোহী

চিটিংবাজরা রাজনীতির তকমা লাগিয়ে

আওয়ামী বনে গেল।

পিতার হাস্যজ্বল ছবি সংবলিত

পোষ্টারে সমাজের ঘৃনিত লোকদের ছবি,

ঘৃণায়, লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে আসে

চোখের জল রক্তের স্রোতে ভাসে

টিকটিকিদের পোষ্টারে পিতার ছবি নয়

এ আমার দাবী।

শুনে ওরা হাসে

যেমন দেশ

তেমন বেশ

আমায় তিরস্কার করে বলে-মোকছেদ

কেন এই অযুক্তিক রোষ।

 

                 ************

 

গান গাইতে পারিনা আমি

কিন্তু শুনতে………..!

স্কুলে পড়তে গিয়ে গাইতে হল গান

সেই গান আমায় এনে দিল সম্মান 

ভাঙা কণ্ঠে সুর তুলি-

"যদি রাত পোহালে শোনা যেত

বঙ্গবন্ধু মরে নাই,

তবে বিশ্ব পেত এক মহান নেতা

আমরা পেতাম ফিরে জাতির পিতা"

বন্ধু-বান্ধবীরা তো হেসে কুটিকুটি

দেখে আমার বঙ্গবন্ধু প্রীতি 

একজন তো বলেই উঠল – মোকছেদ

ঘুচলো বুঝি তার মনের খেদ।

ঠিক তখনই মনে হল মায়ের কথা,

পড়াশুনা বিনে হবি মোকছেদ

মনের ভিতর ভীড় করল ব্যথা।

লেখাপড়া তো ভালভাবেই চলে,

তবে ওরা কেন আমায় মোকছেদ বলে?

তৃপ্তির ঢেকুর এল একটু পরে

রাজাকারের রক্ত ওদের গায়,

পিতার নাম শুনলেই তাই

গায়ে ঝাটার আঘাত খায়।

হয়নিকো ছাড়া

স্বপ্নের লেখাপড়া,

মাকে হারিয়ে, বাবা-ভাইয়ের আগ্রহে

সর্বোচ্চ শিক্ষা এসে দিল ধরা।

সিনা টান টান করে বলতে ইচ্ছা হয়

আমি মোকছেদ নই,

মনের মধ্যে হাজার খুনসুটি

সত্যি কি তাই ! 

ছাত্রাবস্থায় সংগঠনের দেখে স্বজনপ্রীতি

বলতে গেলে কিছু,

নাক কুঁচকিয়ে বলবে সবাই

লেগেছ কেন পিছু।

কথার বাণে হৃদয় ব্যবচ্ছেদ

হেসে হেসে বলত – মোকছেদ।

ডিপার্টমেন্টের প্রোগ্রামের ন্যায্য হিসাব

জমা দিয়েছি তাই প্রিয় বন্ধুর উক্তি – মোকছেদ

কবে হবে ভেদাভেদ?

 

           **************

 

সাংবাদিক হয়ে বেতন পাইনি

কার্ড পেয়েছি,

সেটাই বেতন তোলার হাতিয়ার

কোনদিন চেষ্টা করিনি

হয়তো যোগ্যতায় কুলায়নি।

মাস শেষে সম্পাদকের কাছে হাত পাতা

তাই বলত মুখে আসত যা তা 

দু'শো টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলত – মোকছেদ

বরিশাইল্লা ক্ষ্যাৎ।

 

            ************

 

ডিপার্টমেন্টের ভাইভা হত জব্বর

পেতাম কিন্তু গড়ে ৪৫% নম্বর ;

প্রাইভেট পরিনি তাই

নম্বর পাব কি হুদাই ;

চোখ উল্টিয়ে বিভাগীয় প্রধানেরর হুংকার – মোকছেদ

এ দেশ তোর নয়,ধর গিয়ে ভেগ।

 

           *************

 

চাকুরীর বাজারে

ঘুরি দ্বারে দ্বারে 

সবাই চায় রেফারেন্স

মিলবে তবে ক্লিয়ারেন্স 

প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তির সুপারিশনামা

বাবা দিলেও হবেনা 

বাবার শিক্ষাগত যোগ্যতা কম

তাই বেড়েছে চাকুরীর দাম

এর সাথে যোগ হল অভিজ্ঞতা

নচেৎ চাকুরীর দরকার কিবা?

এ তো বেসরকারীর সাতকাহন 

সরকারী   ? 

বাববা সে তো রং বাহাড়ি

যারই চাকুরী হয়

বলে লিংক ছাড়া কি উপায় ! 

আমি ভাবী ভিন্ন

সরকারী চাকুরী কি মোকছেদদের জন্য?

কতটুকু যোগ্য আমি

জ্ঞাণই বা কতখানি ;

মামু নেই,টাকা নেই

মেধাও নেই হয়তো,

তবে কেন শিক্ষকরা

মেধাবী ছাত্র বলতো ?

ক্লাসের ফার্স্টবয়ও তো ছিলাম

নকলে পাস, তাও মেনে নিলাম;

ব্যর্থ লোকের গল্প কেউ শোনেনা

সর্বদা সফলদের আনাগোনা ;

ভাইভা ভাল হয়

চাকুরী জোটেনা,

মাধ্যম নেই কোন

হাজারও হাঙ্গামা।

প্রতিনিয়ত প্রেমিকার ধিক্কার

পড়াশুনা হয়েছে বিকার 

সৎ পুত্র যুধিষ্ঠির

বিশ্ব বিধাত্রির

অভিজ্ঞতার সনদ

বানানো কি কঠিন এমন?

সত্যায়িত করতে কেউ কি

গেজেটেট কর্মকর্তার কাছে যায় এখন?

তার সাফ কথা –

নীতি আদর্শ তোমার কাছে রাখ,

সামনের মাসে আমার বিয়ে

তুমি অন্য মেয়ে দেখ।

সময়ের সাথে তাল মেলানোর

নামই আধুনিকতা,

সব কিছু ঝেড়ে ফেলে

বেছে নাও নতুন বারতা।

মুখ বাঁকিয়ে আমার কথার

করে পুনরাবৃত্তি

"সোনার বাংলায় জন্মেছি তাই

রেফারেন্স ছাড়া চাকুরী চাই "

সে আশায় গুড়েবালি

থাক তুমি —

আমি তবে চলি।

দশ দিক আঁধার হল

ভাবনায় পরল ছেদ,

সত্যিই তো

পিতার রাজ্যে আমিই মোকছেদ।

২১.০৩.২০১৭

বাংলাবাজার, ঢাকা।

563 total views, 1 views today

About crimef71

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

এক নজরে দেখে নিন ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার রুটিন-২০১৭

(Last Updated On: April 28, 2017) ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার রুটিন পেতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন। https://goo.gl/DxDUvu 9,508 total views, ...

Translate »